মার্কেনটাইল→

ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে যে অর্থনীতি মতবাদের সৃষ্টি হয় তা মার্কেন্টাইল বাদ নামে পরিচিত। নিরিবিচ্ছিন্ন ভাবে কোন অর্থনীতিবীদ বা রাষ্ট্র এই মতবাদের প্রবর্তক ছিল না। এই মতবাদে মূলত মূল্যবান ধাতুকে সংরক্ষণের কথাই বলা হয়েছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এডাম স্মিথ তার 'ওয়েলথ অফ নেশন' গ্রন্থে প্রথম এই অর্থনীতি ব্যাবস্থার নাম দিয়েছিলেন মার্কেন্টাইল বাদ।

বৈশিষ্ট্য:-

i) অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ→

এই প্রথম রাষ্ট্রের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং বণিক ও উৎপাদকের স্বার্থ অভিন্ন বলে বিবেচিত হতে শুরু করে।

ii) আমদানি হ্রাস ও রপ্তানি বৃদ্ধি→

এই মতবাদের মূল বক্তব্যই ছিল সম্পদের সম্পূর্ণ সৎ ব্যাবহার করা। এবং এই উদ্দেশ্যেই আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করা হয়।

iii) সোনা ও রুপোর গুরুত্ব→

 এই নীতি অনুসারে সোনা ও রুপোর ভান্ডার বৃদ্ধি করার উপর জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি নির্ভরশীল। যে সকল দেশে এই ভান্ডার কম তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে।

iv) অবাধ বাণিজ্যের বিরোধিতা→

 এই মতবাদীরা অবাধ বাণিজ্যের বিরোধী ছিলেন। তারা মনে করতেন, অন্য দেশের স্বার্থ খুন করাই স্বদেশের সমৃদ্ধ সম্ভব। এই উদ্দেশ্যে বহু নিষেধাজ্ঞা জারি, আমদানি, শিল্প চাপানো, একচেটিয়া বাণিজ্য ইত্যাদি বৃদ্ধি পাই। এর ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শুরু হয়।

v) উপনিবেশ স্থাপন→

এই নীতি অনুসারে ইউরোপীয় দেশগুলি কাঁচামাল সংগ্রহ ও পণ্য বিক্রির জন্য উপনিবেশ দখল করতে থাকে। এবং এই উপনিবেশে নিজেদের অধিপত্য বজায় রাখার জন্য নৌবহর গঠন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন প্রকৃতি করতে থাকে।

মূল্যায়ণ→

 পরিশেষে বলা যায় মার্কেন্টাইল বাদ যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করলেও এই অর্থনীতি মতবাদ ছিল ভুল ও ত্রুটিতে পরিপূর্ণ। এডাম স্মিথ এছাড়াও আরো অনেকে অর্থনীতিবিদ গণ বলেছেন সঞ্চিত অর্থ ও সম্পদের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করা প্রাকৃতিক দ্বারা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যায় না।