যেন রাবণের চিতা- জ্বলছে তো জলছেই -রাবণের চিতার মত আগুন কারা, কোথায়, কী উদ্দেশ্যে জ্বালিয়েছ এই আগুন তাদের কিভাবে সাহায্য করে

“যেন রাবণের চিতা- জ্বলছে তো জলছেই।” -রাবণের চিতার মত আগুন কারা, কোথায়, কী উদ্দেশ্যে জ্বালিয়েছ? এই আগুন তাদের কিভাবে সাহায্য করে ?

৩+২=৫

উত্তর- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলার’ “গারো পাহাড়ের নীচে” নামক রচনায় বলেছেন যে প্রতি বছর চৈত্র মাসের রাত্রিবেলায় ময়মনসিংহের উত্তরদিকের আকাশে একরাশ ধোঁয়াটে মেঘ দেখা যায়। আসলে ওটা মেঘ নয়, ওটা হল বঙ্গদেশের গারো পাহাড়। সেখানে বসবাসকারী অধিবাসীদের চাষ করার জন্য লাঙল, হাল, বলদ কিছুই নেই। সেখানে চাষ করার মতো কোনো মাটি নেই, শুধু গাছ আর পাথর। তাই ফলানোর জন্য উদ্দেশ্যের পাহাড়বাসীরা প্রতিবছর চৈত্রমাসে পাহাড়ে শুকনো ঝোপঝাড়ে একদিন আগুন লাগিয়ে দেয়। লেখক এখানে সেই আগুনকে “রাবণের চিতা” বলে উল্লেখ করেছেন।
বন্যপ্রাণী শিকার– জঙ্গলে আগুন লাগলে পরে দূধর্ষ জানোয়ার যেমন- বাঘ, অজগর, হরিণ ,শুয়োর প্রভৃতি প্রাণি প্রাণ নিয়ে পালায়-পালায় করে, তখন পাহাড়ি মেয়ে পুরুষেরা সেই সুযোগে মনের সুখে হরেন আর শুয়োর স্বীকার করে।
নাচ ও গান- তারা হরিণ আর শুয়োর শিকার করার পর সন্ধ্যেবেলায় গোল হয়ে ঘিরে নাচ-গান ও শিকার করা পশুর মাংস খায়।

 

চাষ আবাদ- আস্তে আস্তে গোটা বন পুড়ে ছায় হবার পর, পাহাড়ের উপর পুরু হয়ে পড়ে কালো ছাইয়ের পলেস্তারা, তার উপর বীজ পড়তে যা সময়। দেখতে দেখতে পুড়া জমির উপর সবুজ রঙ ধরে-মাথা চড়া দেয় ধান, তামাক, আর নানা ধরনের ফসল।
এইভাবে সেই “রাবনের চিতা’র আগুন তাদের সাহায্য করে।

2 thoughts on “যেন রাবণের চিতা- জ্বলছে তো জলছেই -রাবণের চিতার মত আগুন কারা, কোথায়, কী উদ্দেশ্যে জ্বালিয়েছ এই আগুন তাদের কিভাবে সাহায্য করে”

Leave a Comment