মৃত্যুঞ্জয়ের সুস্থ শরীরটা অসুস্থ হয়ে গেল—মৃত্যুঞ্জয় কেন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। শেষপর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয়ের কী পরিণতি লক্ষ করা গেল।

উত্তর→

মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার কারণ→ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ কে বাঁচায় , কে বাচে ’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়ার পথে শহরের ফুটপাথে  অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা দেখে অফিসে পৌঁছে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল । মন্বন্তরের দিনে এ স্বাভাবিক ঘটনা । কিন্তু এমন ঘটনার কথা সে শুনে থাকলেও আগে দেখেনি কখনও । চরম খাদ্যাভাবে একের পর এক মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে নিজের চারবেলা ভালােমন্দ খেয়ে বেঁচে থাকাকে সে মেনে নিতে পারছিল না । এই মৃত্যু তার মনে যে আঘাত দিয়েছে তারই প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়েছিল । মৃত্যুঞ্জয়ের তার শারীরিক অসুস্থতাজনিত প্রতিক্রিয়ায় ।

মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবর্তন→  ফুটপাথে দেখা অনাহারে মৃত্যুর ঘটনার পর সংসারের ক্ষুদ্র কর্তব্যের গণ্ডিতে নিজেকে বেঁধে রাখতে পারেনি মৃত্যুঞ্জয় । ক্রমে সে অমনােযােগী হয়ে পড়েছিল অফিসের কাজে । তারপর শহরের আদি – অন্তহীন ফুটপাথে , বিভিন্ন লঙ্গরখানায় ঘুরে  অন্নপ্রার্থী মানুষের ভিড়ে মিশে সে বুঝে নিতে চেয়েছে— “ কোথা থেকে কিভাবে কেমন করে সব ওলােট পালােট হয়ে গেল ” । সব কিছু বুঝেও কিছু করতে না পারার অক্ষমতা শেষপর্যন্ত তাকে বদলে দিয়েছে । গল্পের পরিণতিতে অন্নহীন মানুষের দলে খুজে পাওয়া গেছে অন্য এক মৃত্যুঞ্জয়কে । দাড়ি মুখ , খালি গা , ছেড়া ন্যাকড়া পরা সেই মৃত্যুঞ্জয় লঙ্গরখানায় অন্যদের সঙ্গে খিচুড়ির জন্য কাড়াকাড়ি মারামারি করে বলেছে — গাঁ থেকে এইছি । খেতে পাইনে বাবা । আমায় খেতে দাও !’

মানসিক বিকৃতির শিকার→ মানবিক মূল্যবােধের তাড়নায় মৃত্যুঞ্জয় শেষ অবধি  মানসিক বিকৃতির  শিকার হয়েছে । সমাজ ও পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়ের মন অভিযােজিত হতে পারেনি । সমাজ পরিবেশের অসহনীয় চাপ তার স্বায়তম্বের শক্তি ও সহনশীলতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল । ফলে গল্পের পরিণতিতে মস্তিষ্কবিকৃতি দেখা গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের , বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে তার আচরণ ।

Leave a Comment