পঁচিশ বছর আগে কালীঘাট থেকে পৈতা নিয়ে দেশে ফিরে এসে কলকাতার গল্প বলেছিল মােনা ঠাকুর |

প্রশ্ন:-

 “পাঁচিশ বছর আগে কালীঘাট থেকে পৈতে নিয়ে দেশে ফিরে এসে কলকাতার গল্প বলেছিল মােনা ঠাকুর !” — মােনা ঠাকুরের কলকাতা ভ্রমণ কেমন ছিল? কেন সে কলকাতার গল্প বলেছিল?

 

2+3=5

 

উত্তর:-

মোনা ঠাকুরের কলকাতা ভ্রমণ→

লেখক সুভাষ মুখােপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় আমরা জানতে পারি পঁচিশ বছর আগে তাদের গ্রামের মােনা ঠাকুর কালীঘাট থেকে পৈতে নিয়ে দেশে ফিরে এসে কলকাতার গল্প বলেছিল। কলকাতা এক আজব শহর; সেখানে কল টিপলে জ্যোৎস্নার বিচ্ছুরণ ঘটে, কল খুললে জল। বাঁধানাে রাস্তায় মােটরগাড়ি, ট্রাম চলাচল করে। বাড়ি আর গাড়িতে পূর্ণ কলকাতা। মাটি বা সাঁকোর চিহ্নমাত্র নেই কোথাও, শুধুই বালি – চুন আর পাথর। খালি শত শত গলি আর মােড়ের ভিড়। ঘুরতে ঘুরতে পা ব্যথা হয়ে যায়। কলকাতায় রাত আর দিনের মধ্যে কোনাে পার্থক্য করা যায় না। পথ চলতে চলতে নিজের ছায়ার পাশে অন্যলােকের লম্বা – চওড়া ছায়া দেখে ভিরমি খেতে হয়। পিছন ফিরলে দেখা যায় ঝকড়া ঝাঁকড়া চুল, বড়াে গোঁফ – দাড়ি, হাতে লম্বা লাঠিওয়ালা ষণ্ডমার্কা চেহারার লােক দাঁড়িয়ে, তার কাধে বড়াে ঝুলি। ছােটো ছেলে দেখলেই ধরে নিয়ে যায়। কলকাতায় কী দেখেছে মােনা তা বর্ণনাতীত। গাড়ি – বাড়ি যা চাইবে, তাই পাবে। কিন্তু এর মধ্যেও বিপদ ঘনিয়ে আসে। কোথাও কিছু না থাকলেও শহরটার মাথায় হঠাৎ খুন চাপে। মাথা খারাপ শহরটার। তখন ফটফট বন্ধ হয় দরজা – জানলা। বড়াে দালানও যেন হয় হানাবাড়ি। মানুষের অস্তিত্ব বােঝা দায়। রাস্তা ফাঁকা। রাত আঁধার। মুসলমান – হিন্দু কাটাকাটি করে। ছুরি – লাঠি বার হয়, রাস্তায় আগুন জ্বলে ওঠে। রাস্তায় লাশ গড়ায়। কেবল সাহেবরা রাজার জাত, তাদের কেউ ছোঁয় না। তারা মিটিমিটি চায় আর ফিকফিক হাসে। খ্যাপা শহর। এই ঠান্ডা, এই গরম। এই খ্যাপামির ভয়েই মােনা কলকাতা ছেড়ে গ্রামে ফিরে যায়।

মোনা ঠাকুরের গল্প বলার কারণ→

কলের কলকাতার গল্প মােনা তার বন্ধুদের বহু অনুরােধ, উপরােধ এবং পরিশেষে মধুকুলগুলির মগডাল থেকে চুরি করে পাড়া আস্ত দুটো আম ঘুষ পেয়ে তবেই বলে। তাও সে এসব গল্প একদিনে বলেনি; রয়েসয়ে, টিপেটিপে পুঁজি ভেঙেছিল। কেননা সে জানত বন্ধুমহলে এই কলকাতা ভ্রমণই তাকে বিশিষ্ট করেছে আর কলকাতার গল্প না শুনে বন্ধুদের পেট ফুলে উঠেছে।


Leave a Comment