একটু দুরে স্টেশনের রাস্তায় মিলিটারি ছাউনির পাশে একটা অদ্ভুত জন্তু দেখলাম | লেখক এই অদ্ভুত জন্তুটির যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা উল্লেখ করাে

প্রশ্ন:-

 “একটু দুরে স্টেশনের রাস্তায় মিলিটারি ছাউনির পাশে একটা অদ্ভুত জন্তু দেখলাম।” — লেখক এই অদ্ভুত জন্তুটির যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা উল্লেখ করাে।

1×5=5

 

উত্তর:-

উৎস→

উদ্ধৃতাংশটি সুভাষ মুখােপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গদ্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘হাত বাড়াও’ শীর্ষক রচনার অন্তর্গত।

অদ্ভুত জন্তুর বর্ণনা→

পাতলা কুয়াশায় মােড়া পঞ্চাশের আকালের এক সকালে লেখক রাজবাড়ির বাজারে বসেছিলেন ফরিদপুরের গাড়ির অপেক্ষায়। একটু দূরে স্টেশনের রাস্তায় মিলিটারি ছাউনির পাশে তিনি একটা অদ্ভুত জন্তু দেখেছিলেন। সে আস্তে আস্তে চার পায়ে এগিয়ে আসছে, কুয়াশার মধ্যে জ্বলজ্বল করছে তার দুটি চোখ। সেই চোখের দৃষ্টিতে ভয়ে বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়। আরও কাছে এগিয়ে আসতে বােঝা গেল সে মূর্তি আসলে মানুষের, ‘অমৃতের পুত্র মানুষ’; যে বারাে – তেরাে বছরের উলঙ্গা একটি ছেলে। রাস্তার ধুলাে থেকে চাল আর ছােলা খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে সে। কিছু একটা সন্ধান করছে তার জ্বলন্ত চোখ। মানুষের হাতের মতাে তার দুটি থাবা, আঙুলগুলাে আগার দিকে যেন একটু বেশি সরু, গায়ে একটুও লােম নেই, মাজা পড়ে গেছে, হাঁটতে পারে না। তাই জানােয়ারের মতাে চার পায়ে চলে। একা থাকলে হয়তাে লেখক ভয়ে মূর্ছা যেতেন। জন্তুটির চোখের দৃষ্টিতে এমন এক মায়া ছিল, যা দেখলে বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়। লেখক ছেলেটিকে দেখে জন্তু ভেবে ভুল করেছিলেন তা কিন্তু নয়। এক নিদারুণ অমানবিক দৃশ্য উপস্থাপন করার এটাই পদ্ধতি লেখকের। আসলে তিনি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চান যুদ্ধ, কৃত্রিম মন্বন্তর আমাদের মনুষ্যত্ববােধকে কীভাবে শেষ করে দেয় কিংবা তার অনিবার্য পরিণতি কী হতে পারে।


Leave a Comment