ভিক্ষা দেওয়ার মতাে অস্বাভাবিক পাপ যদি আজ পুণ্য হয়ে থাকে | জীবনধারণের অন্নে মানুষের দাবি জন্মাবে কিসে

প্রশ্ন:-

“ভিক্ষা দেওয়ার মতাে অস্বাভাবিক পাপ যদি আজ পুণ্য হয়ে থাকে, জীবনধারণের অন্নে মানুষের দাবি জন্মাবে কিসে?”― ‘ভিক্ষা দেওয়া’কে অস্বাভাবিক পাপ এরূপ ভাবার কারণ কী? প্রসঙ্গত উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।

3+2=5

উত্তর:-

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ’ গল্পটি থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে।

‘অস্বাভাবিক পাপ’ ভাবার কারণ→

বাস্তববাদী নিখিল মৃত্যুঞ্জয়ের যন্ত্রণায় সহমর্মী হলেও, তার অনুশােচনাকে মেনে নিতে পারেনি। তার কাছে ‘রিলিফ’, বিপুল সংখ্যক অভুক্তদের বদলে, সামান্য কিছু নিরন্নদের বাঁচিয়ে তােলার সান্ত্বনা মাত্র। কারণ বেঁচে থাকার অধিকার সবার আছে এবং তাতে প্রয়ােজনীয় খাদ্যে দাবি সবার সমান। কিন্তু মানুষ আবেগাশ্রিত হয়ে সেই দাবিকে ভুলে ‘ভিক্ষা’- কে পুণ্য ভেবেছে। যা মানুষের দাবি সম্পর্কিত স্বাভাবিক নিয়মকে বদলে অধ্যাত্মনীতিতে পরিণত করেছে। নিখিল তাই ভিক্ষা দেওয়াকে ‘অস্বাভাবিক পাপ’ বলেছে।

তাৎপর্য→

বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় ‘অনাহারে মৃত্যু’ সহ্য করতে না পেরে নিজেকে অপরাধী ভেবেছে। নিজের চারবেলা খাওয়া, স্বাভাবিক জীবনযাপনকে দোষারােপ করেছে। তার এই ভাবনা নিখিল কোনােভাবেই মেনে নিতে পারেনি। বাস্তববাদী নিখিলের কাছে দেশের মানুষকে বাঁচানাের জন্য নিজেকে অভুক্ত রাখা বড়াে পাপ। এই নীতিকে মৃত্যুঞ্জয়ই হােক বা ‘রিলিফ’ সংস্থা, তারা সামনে থাকা কিছু মানুষকে বাঁচানাের প্রচেষ্টা করলেও আড়ালে অভুক্ত অগণিত মানুষকে রক্ষা করতে পারে না। নিখিলের মতে একজন মানুষের দয়ায় বেঁচে থাকা, মানুষকে তার প্রাপ্য দাবি থেকে সরিয়ে রাখে। জীবনধারণের অন্নে তার অধিকারবােধ সম্পর্কে সে কোনােভাবেই সচেতন হতে পারে না। তাই প্রয়ােজন এসমস্ত মানুষকে স্বার্থপর করে তুলে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করানাে, কারণ ভিক্ষা দেওয়া পাপ। একে এক শ্রেণির মানুষ ‘অধ্যাত্মনীতিতে’ পরিণত করে স্বাভাবিক বাস্তবতাকে হারিয়ে ফেলেছে।


Leave a Comment