এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কি | কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে | বক্তা কেন নিজেকে অপরাধী বলে মনে করেছেন

প্রশ্ন:-

 “এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কি? ” — কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে? বক্তা কেন নিজেকে অপরাধী বলে মনে করেছেন?

2+3=5

উত্তর:-

 অপরাধ→

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়ার সময় ফুটপাথে নিরন্ন এক ব্যক্তির মৃত্যু দেখেছিল। দুর্ভিক্ষের কারণে অনাহারে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকে সে নিজের উদাসীনতার জন্য দায়ী করেছে। বুভুক্ষ মানুষটিকে বাঁচাতে না পারাকে সে ‘অপরাধ’ বলেছে।

অপরাধী মনে করার কারণ→

● পঞ্চাশের মন্বন্তরে বিপর্যস্ত মানুষ গ্রাম ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে শহরে ভিড় জমায়। সরকারি উদ্যোগ, লঙ্গরখানা কোনাে কিছুই অগণিত মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে না। ফলে নিরন্ন বহু মানুষকে যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এমনই একদিন আবেগপ্রবণ, সচ্ছল পরিবারের মৃত্যুঞ্জয় ‘অনাহারে মৃত্যু’ দেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুভুক্ষু মানুষকে না বাচাতে পারা তার মনে অনুশােচনা তৈরি করে। সে ভাবে, নিজে না খেয়ে অন্যকে বাঁচানাে যায়, এবং এটাই আদর্শ। নিখিলের ই যুক্তিবাদও তার ভাবনাকে টলাতে পারে না। তার মতে মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, সমাজের দায়িত্ব মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা। নিরন্নদের জন্য যে ‘রিলিফ ওয়ার্কের’ ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা লােকের অভাবে ঠিকভাবে চলছে না। এদিকে নিঝঞ্ঝাট মৃত্যুঞ্জয় অফুরন্ত সময় ব্যয় করে।

                 মৃত্যুঞ্জয়ের দৃঢ় ধারণা হয়, না খেয়ে মরে যাওয়া মানুষটির জন্য সে দোষী। প্রয়ােজনের চেয়ে বেশি না খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু খাদ্য দরকার ততটুকু গ্রহণ করলে হয়তাে লােকটা অনাহারে মরত না। এসমস্ত কারণে মৃত্যুঞ্জয় বারবার নিজেকে ‘অপরাধী’ বলেছে।


Leave a Comment