আধুনিক ইতিহাস লেখন পদ্ধতি বলতে কি বোঝো আধুনিক ইতিহাস রচনার উপাদান গুলি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও

প্রশ্ন মান→৮×১=৮

 ভূমিকা->আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে মানব সভ্যতার উদ্ভব হলেও মানব সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস লেখা শুরু হয় বহুকাল পরে। সর্বপ্রথম ইতিহাস লেখার সূত্রপাত করেন প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস তাই তাকে ইতিহাসের জনক বলা হয়। এর পর বৈজ্ঞানিক ঐতিহাসিক জনক থুকিডিডিস, আধুনিক ইতিহাস চর্চার জনক ইবন খালদুন ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। আধুনিক কালের যথার্থ ইতিহাসে যে লেখন পদ্ধতি গড়ে উঠেছে তা আধুনিক ইতিহাস লিখন পদ্ধতি নামে পরিচিত।

ইতিহাস রচনার ঐতিহাসিক উপাদান
ইতিহাস হল সমাজবিজ্ঞান আর ঐতিহাসিক হলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী ঐতিহাসিক বিউরি বলেছেন। “ইতিহাস হলো একটি বিজ্ঞান, এর কম নয় বেশিও নয়” ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকদের কয়েকটি নীতি অনুসরণ করতে হবে।
  1. উৎস সংগ্রহ->ইতিহাসের বিষয় বস্তুর মূল ভিত্তি হলো ঐতিহাসিক উৎস ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকের প্রথম কাজ হলো বিভিন্ন ধরনের উৎসের সন্ধান করে সেগুলো সংরক্ষণ করা যেমন প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস, মৌখিক উৎস, ছবি ভিত্তিক উৎস এর লিখিত বিবর্ণ উৎস।
  2. উৎসের শ্রেণি বিভাগ->ঐতিহাসিক দের কাজ হলো উৎস গুলিকে সংগ্রহ করার পর সেগুলি শ্রেণীবিভাগ করা এবং গুরুত্ব অনুসারে অতিপ্রয়োজনীয়, প্রয়োজনীয়, মোটামুটি প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় উৎস গুলি কে চিহ্নিত করা
  3. উৎস সম্পর্কে গবেষণা->উৎস থেকে তথ্য উদঘাটন করার জন্য ঐতিহাসিক কে সেই উৎস নিয়ে গভীর ও নিরপেক্ষ গবেষণা করতে হবে। উৎসটি সেই যুগের কোন পটভূমিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা ঐতিহাসিকে গভীর ভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদঘাটনের চেষ্টা করতে হবে। উৎসটির সমকালীন ধর্ম, অর্থ সামাজিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
  4. কার্যকারণ পদ্ধতি->ইতিহাসবিদ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার জন্য সেগুলি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে থাকে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কোন বক্তব্য প্রমান্য তথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত  হলে সেই তথ্য কে সত্য সত্য বলে গ্রহণ করা যায়। যেমন- পুরাতাত্ত্বিক, মুদ্রা, প্রাচীন সাহিত্য, সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ ইত্যাদি। এগুলি হল বাস্তব সম্বত ঐতিহাসিক তথ্য।
  5. তথ্য সংরক্ষণ ও ইতিহাস রচনা->দীর্ঘ গবেষণার পর যে তথ্য গুলি পাওয়া গেল তা ঐতিহাসিক সর্বদা গুরুত্বসহকারে তার নোটবুকে লিখে রাখবেন। নোটবুকে তথ্যগুলি যথার্থ ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে তিনি যথার্থ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনা করবেন।
  6. ধারাবাহিক ও কালানুক্রম->ইতিহাসের ঘটনাগুলি সময়ের পথ বেয়ে ধারাবাহিক ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলে। তাই ঐতিহাসিকগণ সময়ের ধারাবাহিক বজায় রেখে যথার্থ ইতিহাস রচনা করবেন। যে কোন ঘটনা বর্ণনার জন্য ঐতিহাসিকরা সময়,কাল উল্লেখ করেন। এই সময়কাল অনুসারে ঘটনাগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাথমিক অবস্থা, মধ্য অবস্থা ও শেষ অবস্থা।

ভৌগোলিক অবস্থানের উল্লেখ->যথার্থ ইতিহাস রচনায় ভৌগলিক অবস্থানের উল্লেখ করার বিষয়টিও ঐতিহাসিক এর পক্ষে ভীষন জরুরী। কোন ঘটনার ঐতিহাসিক বিবরণ দিলেও তাতে ঘটনার অবস্থানের উল্লেখ না থাকলে সেই ইতিহাস মূল্যহীন হয়ে পড়বে।

মূল্যয়ন->ঐতিহাসিক উৎস অনুসন্ধান, তথ্য উৎঘাটন, কালানুক্রমের ব্যবহার, ভৌগলিক অবস্থানের উল্লেখ প্রভৃতি বিষয় গুলির মাধ্যমে একজন ঐতিহাসিক যথার্থ ইতিহাস রচনা করতে পারে। তবে তাকে ইতিহাসের পাঠ কে সকল স্থানের মানুষের কাছে মনোযোগী করে তুলতে হবে। এই কারণে রচনার ভাষা যাতে মধুর ও সহজ সরল হওয়ার সেই দিকে ঐতিহাসিকদের নজর দিতে হবে।

1 thought on “আধুনিক ইতিহাস লেখন পদ্ধতি বলতে কি বোঝো আধুনিক ইতিহাস রচনার উপাদান গুলি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও”

Leave a Comment