【2022】ইতিহাস ছোট প্রশ্ন এবং উত্তর || আর্য জাতি – বৈদিক সভ্যতা

প্রশ্নঃ ঋকবেদে কোন্ দেবতাকে বিশ্বজগতে ব্যাপ্ত শৃঙ্খলার রক্ষক ও নিয়ন্তা বলা হয়েছে ?

 উত্তরঃ ঋকবেদে বরুণকে দিন – রাত্রি ও ঋতুচক্রের পরিচালক রূপে কল্পনা করা হয়েছে । এইজন্য বরুণকে ‘ ঋত ’ নামে অভিহিত করা হয় ।

প্রশ্নঃ ঋকবৈদিক যুগে কয়েকজন দেবদেবীর নাম কর । 

উত্তর : ঋকবৈদিক যুগে কয়েকজন দেবদেবী হলেন— বরুণ , ইন্দ্র , দৌ , রুদ্র , মিত্র , অগ্নি , ঊষা , বিন্নু প্রমুখরা ।

 প্রশ্নঃ ঋকবৈদিক যুগে উল্লেখিত ‘ আয়স ’ ও ‘ শীর ’ কী ? ঋকবৈদিক যুগে উল্লেখিত ‘ মিত্র ’ ও ‘ মরুৎ ‘ কী ? 

উত্তরঃ ঋকবৈদিক যুগে আর্যরা লোহাকে ‘ আয়স ’ ও লাঙলকে ‘ শীর ’ বলত । – ঋকবৈদিক যুগে সন্ধি , শপথ ও প্রতিজ্ঞা রক্ষার দেবতা ছিলেন ‘ মিত্র ’ । ‘ মরুৎ ছিলেন বায়ুর দেবতা ।

প্রশ্নঃ ঋকবেদে উল্লেখিত ‘ গবিষ্টি ’ ও ‘ অগ্ন্যা ‘ কী ? 

উত্তরঃ ঋকবেদে উল্লেখিত ‘ গবিষ্টি’র অর্থ গবাদি পশুর জন্য আক্রমণ ও যুদ্ধ । ঋকবেদে গাভীকে ‘ অগ্ন্যা ” বা অবধ্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে । 

প্রশ্নঃ পরবর্তী বৈদিক যুগ সম্পর্কে প্রধান সাহিত্য উপাদান কী ? 

উত্তরঃ পরবর্তী বৈদিক যুগের প্রধান সাহিত্য উপাদান এই সময়কালে রচিত সামবেদ , যজুর্বেদ ও অথর্ববেদের সংহিতা সঙ্গে সংশ্লিষ্ট , ব্রাহ্মণ , আরণ্যক ও উপনিষদ । 

প্রশ্নঃ পরবর্তী বৈদিক যুগে দুইজন বিদুষী মহিলার নাম লেখ । 

 উত্তরঃ গার্গী ও মৈত্রেয়ী হলেন পরবর্তী বৈদিক যুগে উল্লেখযোগ্য বিদুষী মহিলা । এই যুগের শিক্ষা সংস্কৃতিতে এদের মত দার্শনিক নারীর অবদান যথেষ্ট ।

প্রশ্নঃ পরবর্তী – বৈদিক যুগে কোন্ কোন্ দেবতারা বিশেষ প্রাধান্য পান ?

 উত্তরঃ পরবর্তী – বৈদিক যুগে বিভিন্ন দেবতাদের মধ্যে বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তারূপে প্রজাপতি ( ব্রহ্মা ) , রুদ্র ( শিব ) ও বিষ্ণু ( বরুণ ) বিশেষ প্রাধান্য পান । 

প্রশ্নঃ পরবর্তী বৈদিক যুগে কী কী কর আদায় করা হত ? 

উত্তর : পরবর্তী বৈদিক যুগে বলি নামক করটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা হত । এছাড়াও ভাগ , শুল্ক প্রভৃতি করও আদায় করা হত । 

প্রশ্ন : একজন গবেষকের নাম কর যিনি আর্যদের উচ্চ বর্ণের বলে উল্লেখ করেছেন ? 

উত্তর : গবেষক সি . ল্যাসেন আর্যদের উচ্চ বর্ণের বলে উল্লেখ করেছেন । ( গৌড় বর্ণ ) 

প্রশ্ন : ফ্রেডারিক ম্যাক্সমুলার বৈদিক সাহিত্যের রচনাকাল নির্ণয় করতে কোন্ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিলেন ? 

উত্তর : ফ্রেডারিক ম্যাক্সমুলার ( ১৮২৩-১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ ) বৈদিক সাহিত্যের রচনাকাল নির্ণয় করতে গিয়ে “ পশ্চাৎ থেকে গণনার পদ্ধতি ” ( Date reckon back ward ) উদ্ভাবন করেছিলেন । 

প্রশ্ন : বৈদিক যুগে “ প্রাচী ” দেশ কোন অঞ্চলকে বলা হত ? 

উত্তর : বৈদিক যুগে বিহার , বাংলা , বারাণসী প্রভৃতি অঞ্চলকে “ প্রাচী ” দেশ বলা হত । 

প্রশ্নঃ কোন সময়কে মহাকাব্যের যুগ বলা হয় ? 

উত্তরঃ বৈদিক যুগের পরবর্তী সময়ের ইতিহাস জানার জন্য মূলতঃ রামায়ণ ও মহাভারতের উপর নির্ভর করতে হয় । তাই এই যুগকে মহাকাব্যের যুগ বলা হয় । এই যুগ আনুমানিক ১৫০০-৬০০ খৃষ্ট পূর্বাব্দ । 

প্রশ্নঃ মহাকাব্যের যুগে কী ধরণের রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল ? 

উত্তর : মহাকাব্যের যুগে রাজতান্ত্রিক রাজ্য ছাড়াও বেশ কিছু প্রজাতন্ত্র বা গণরাজ্যের কথা জানা যায় । যেমন- মালব , দ্রক প্রভৃতি । 

প্রশ্নঃ মহাকাব্যের যুগের শাসনব্যবস্থা কারা পরিচালনা করতেন ? 

উত্তরঃ মহাকাব্যের যুগে গ্রাম শাসনের দায়িত্বে ছিলেন গ্রামীণ । এছাড়া নগর বিষয় ও জনপদ শাসন করার জন্য পৃথক কর্মচারী ছিলেন । 

প্রশ্নঃ আর্যদের ব্যবসা – বাণিজ্য কীভাবে চলতো ? 

উত্তর : আর্যদের ব্যবসা – বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে চলতো । 

প্রশ্নঃ আর্যদের প্রধান বাহন কী ছিল ? 

উত্তর : আর্যদের প্রধান বাহন ছিল ঘোড়া ও ষাঁড়ে টানা রথ । 

প্রশ্নঃ আর্যদের বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডারকে এক কথায় কী বলা হয় ? 

উত্তর : আর্যদের সাহিত্য – ভাণ্ডারকে এককথায় বলা হয় বেদ । 

প্রশ্নঃ পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থের নাম কী ? 

উত্তরঃ পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রন্থের নাম হল বেদ । 

প্রশ্নঃ আর্যদের সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ দেবতা ইন্দ্র আর্যদের সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা ছিলেন । 

প্রশ্নঃ বেদ অন্য কী নামে পরিচিত ? 

উত্তরঃ বেদ ‘ শ্রুতি ’ নামে পরিচিত ছিল । বেদের অপর নাম শ্রুতি । 

প্রশ্নঃ আর্য – পরিবারের প্রধান বা কর্তা কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ আর্য – পরিবারের প্রধান বা কর্তা পিতা ছিলেন । 

প্রশ্নঃ আর্যদের চতুরাশ্রমের প্রথম আশ্রমের নাম কী ? 

উত্তরঃ আর্যদের ধর্মাচরণের প্রথম আশ্রমের নাম হল ব্রহ্মচর্য । 

প্রশ্নঃ আর্যদের ধর্মাচরণের পথ কী ছিল ? 

উত্তর : যজ্ঞানুষ্ঠান একমাত্র আর্যদের ধর্মাচরণের পথ ছিল । 

প্রশ্ন : প্রাচীন আর্যদের সময়ে গ্রামের প্রধানকে কী বলা হত ? 

উত্তর : প্রাচীন আর্যদের সময়ে গ্রামের প্রধানকে বলা হত গ্রামনী । 

প্রশ্নঃ বেদ কয়টি ?

উত্তর : বেদ চারটি ভাগে বিভক্ত । 

প্রশ্নঃ ‘ নিষ্ক ‘ কী ? 

উত্তর : আর্যদের ব্যবহৃত স্বর্ণমুদ্রাকে ‘ নিস্ক ’ বলে ।

প্রশ্নঃ ‘ সপ্তসিন্ধু ’ কী ? 

উত্তর : সাতটি নদী – বিধৌত অঞলকে ‘ সপ্তসিন্ধু ’ বলে ।

প্রশ্নঃ  আর্যদের আদি বাসস্থান কোথায় অবস্থিত ? 

উত্তর : ইউরোপে উরাল পর্বতের দক্ষিণে খিরঘিজের তৃণভূমি অঞ্চলে আর্যদের আদি বাসস্থান স্থাপক ব্রান্ডেনস্টাইন । )

Leave a Comment