নয়া উপনিবেশবাদ বলতে কী বোঝো।। উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে লেলিনের ও হবসনের তত্ত্ব আলোচনা করো।। উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস 2021 সাজেশন

প্রশ্ন:-

উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে হবসন ও লেনিনের তত্ত্ব আলোচনা করো।

অথবা,

সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে হবসন ও লেনিনের মতাদর্শ ব্যাখ্যা করো।

অথবা,

 নয়া উপনিবেশবাদ বলতে কী বোঝো ? উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে লেলিনের ও হবসনের তত্ত্ব কী ছিল?

অথবা,

নয়া সাম্রাজ্যবাদ বলতে কী বোঝো? উপনিবেশবাদের ব্যাখ্যা হিসেবে হবসন ও লেনিন এর সীমাবদ্ধতা বা তত্ত্ব আলোচনা কর।


নয়া সাম্রাজ্যবাদ→

ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে শিল্পোন্নত দেশগুলি-ইংল্যান্ড,ফ্রান্স,বেলজিয়াম,জার্মানি প্রভৃতি। উদবিত্ত শিল্প পণ্যকে বাজারে বিক্রি করার জন্য উপনিবেশ বিস্তার করে। সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করে শিল্পজাত পণ্যের বাজারে সস্তাদরে উপনিবেশ থেকে বা দখলীকৃত সাম্রাজ্য থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করা ছিল এই উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ এর উদ্দেশ্য। পুঁজিপতি দেশগুলির দ্বারা দখলীকৃত সামরাজ্যগুলি নয়া সাম্রাজ্যবাদ নামে পরিচিত। অনেকে মনে করেন এই নয়া সাম্রাজ্যবাদ প্রসারের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা দাতাদের মধ্যে সর্বাধিক অগ্রগণ্য ব্যাক্তি হলেন –জে. এ.হবসন ও ভি.আই.লেনিন

হবসনের ব্যাখ্যা→

 ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে হবসন তার প্রকাশিত “Imperialism:A study” গ্রন্থে বলেছিলেন যে, নয়া সাম্রাজ্যবাদ এর পেছনে কোন মহৎ উদ্দেশ্য ছিল না। সাম্রাজ্যবাদের মূলশিকড় হল পুঁজিবিনিয়োগের ক্ষেত্র মাত্র। এই ব্যাখ্যার প্রধান দিক গুলি নিম্নরূপ।

(১) উদবিত্ত পুঁজির সৃষ্টি→  হবসন বলেছেন যে,নয়া সাম্রাজ্যবাদ এর প্রধান কারণ ছিল পুঁজিবাদী। সমাজ ব্যবস্থায় পুঁজিপতি মালিকদের হাতে সঞ্চিত হওয়া প্রচুর মূলধন। এই মূলধনের পাহাড় সৃষ্টির প্রধান কারণ ছিল সমাজে ধনবণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈসাম্য।

(২) পুঁজিপতিদের চাপ→  হবসন মনে করেন যে বাড়তি মূলধনের চাপি হলো সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের মূল কারণ। এই মূলধন উপনিবেশ গুলিতে বিনিয়োগ করে আরো মুনাফা বৃদ্ধির জন্য নিজ দেশের সরকারকে চাপ দিতে থাকে।

(৩) শোষণ→ হবসন মনে করেন যে, উপনিবেশিক সমাজে পুঁজিপতি শ্রেনির মূল লক্ষ্য ছিল অধিক মুনাফা অর্জন ও সম্পদ অর্জন। এই লোভে তারা সস্তায় কাঁচামাল সংগ্রহ, উচ্চ মূল্যে পণ্য বিক্রি ও বাজার দখল করে। এছাড়া ইউরোপের বাহিরে এশিয়া ও আফ্রিকার উপর ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

 সমালোচনা→  হবসন সাম্রাজ্য বাদের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারা নানাভাবে সমালোচিত। 

(ক) শিল্প বিপ্লবের আগের যুগে কেন সাম্রাজ্যবাদ শুরু হয়েছিল তার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি হবসন। 

(খ) উনিশ শতকের প্রথমার্ধে শিল্পে উন্নত হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপীয় দেশগুলি কেন সাম্রাজ্য উৎসাহ হারিয়ে ছিল তার ব্যাখ্যা দেননি। 

(গ) ঔপনিবেশিকতার চরম শিকড়ে থাকার সত্ত্বেও কেন আমেরিকা ও রাশিয়া বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করেছিল তার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি হবসন।

লেলিনের ব্যাখ্যা→

  বিখ্যাত রুশ কমিউনিস্ট নেতা ভি.আই.লেলিন ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গ্রন্থে  “Imperialism the highest stage of capitalism” সাম্রাজ্যবাদের প্রসারের  ব্যাখ্যা বিশদভাবে দিয়েছেন।

(১) পুঁজির উদ্ভব→ লেলিন দেখিয়েছেন যে শিল্পের অগ্রগতির ফলে ইউরোপীয় দেশগুলির মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের হাতে প্রচুর পরিমাণে পুঁজি সঞ্চিত হয়। ওই পুঁজি ইউরোপের ভূখণ্ডে মাঝে বিনিয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করার সম্ভাবনা কম ছিল।

(২) বাজার দখল ও কাঁচামাল সংগ্রহ→  পুঁজিপতি রাষ্ট্রের শিল্প মালিকরা বেশি মুনাফা লাভের জন্য দেশে যা প্রয়োজন তার থেকে বেশি পণ্য উৎপাদন করেন। এই সব পণ্য বিক্রি এবং শিল্প উৎপাদনের জন্য সস্তায় কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পুঁজিপতি রাষ্ট্রগুলি উপনিবেশ দখলের চেষ্টা চালায়।

(৩) প্রতিদ্বন্দ্বিতা→  পুঁজিবাদি উপনিবেশ দখলের জন্য পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের মধ্যে কাড়াকাড়ি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা সূচনা হয়। যার ফল হল বিশ্বযুদ্ধ। লেলিনের মতে পুঁজিবাদী অর্থনীতি হলো যুদ্ধের জন্মদাতা।

সীমাবদ্ধতা→

লেনিনের সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা নানান দিক দিয়ে সমালোচিত।

 (ক) ডেনমার্ক,সুইডেন,প্রভৃতি দেশের উপনিবেশ ছিল না। কিন্তু সেই দেশের শ্রমিকদের উন্নত ছিল।

 (খ) অন্যদিকে ফ্রান্স,বেলজিয়াম,প্রভৃতি দেশের শ্রমিকের জীবন যাত্রার মান নিচু ছিল লেলিনের তথ্য অনুযায়ী এই শ্রমিকদেরজীবন যাত্রার মান উচু হওয়া উচিত ছিল।

 (গ) শিল্প বিপ্লব ও পুঁজিবাদী অর্থনীতির উদ্ভব হয় উনবিংশ শতকে কিন্তু এর আগে কেন উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিল লেলিন তার ব্যাখ্যা দেননি।

Leave a Comment