পেশাদারী ইতিহাস কাকে বলে ।। পেশাদার ও অপেশাদার ইতিহাস চর্চার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য লেখ ।। উচ্চমাধ্যমিক 2021 ইতিহাস বড় প্রশ্ন সাজেশন

 পেশাদারি ইতিহাস :- ইতিহাস হল আসলে মানব স্মৃতির অতীত কর্মকাণ্ডের কালানুক্রমিক অধারাবাহিক লিখিত বিবরণ। এই ইতিহাস নিয়ে যারা চর্চা করেন, তাদেরকে ইতিহাসবিদ বা ঐতিহাসিক বলা হয়। যাদের মধ্যে অনেকে ইতিহাসকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে পেশাদারী ঐতিহাসিক বলা হয়। আবার ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেও কেও অবসর হিসেবে শখের ইতিহাস চর্চা করে থাকেন তারা হল মূলত অপেশাদারী ঐতিহাসিক। বর্তমানকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদারির ইতিহাসের ভিত্তিতে নানা ধরনের ইতিহাস গবেষণা থেকে বর্তমান কালে প্রতিনিয়ত ইতিহাসের নতুন নতুন দিকের উম্মোচন করে চলেছে এগুলি পেশাদারী ইতিহাস চর্চার অন্যতম উপাদান ।


পেশাদারি ইতিহাসের সঙ্গে অপেশাদারি ইতিহাসের পার্থক্য

প্রকৃতপক্ষে উনবিংশ শতকের শেষদিকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পেশাদারি হিসেবে ইতিহাস চর্চা শুরু হয়েছে। এর ফলে নতুন নতুন দিকেরও উন্মোচন হয়ে চলেছে।

 অপেশাদার ইতিহাস চর্চা প্রাচীনকাল থেকে শুরু হয়েছে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস ও থুকিডিডিস যে ইতিহাস চর্চার সূচনা ঘটান তা ছিল মূলত পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জাতীয় ইতিহাসকে তুলে ধরা।

১. কার্যগত পার্থক্য :- পেশাদারি ইতিহাস মানবজাতির মধ্যে জাতীয়তাবাদী আন্তর্জাতিকতাবাদ এর প্রসার ঘটায় অন্যদিকে অপেশাদারি ইতিহাস সংকীর্ণ জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটায় ।

২. সংরক্ষিত পার্থক্য :- পেশাদারি ইতিহাস তার সংরক্ষিত বিষয়গুলি আধুনিক প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে তাদের সুপথে পরিচালিত করে কিন্তু অপর দিকে অপেশাদারি ইতিহাস উপরোক্ত বিষয়ে খুবই সংকীর্ণ ও অসম্পূর্ণ ।

৩. দৃষ্টিভঙ্গি জনিত পার্থক্য :- পেশাদারি ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য সত্য অনুসন্ধান করা । এজন্য এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি তে তথ্য সংগ্রহ করা হয় । অন্যদিকে অপেশাদারি ইতিহাসের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির বিষয়ে নিজস্ব সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তে তথ্য সংগ্রহ করা ।

৪. ধর্মীয় পার্থক্য :- পেশাদারি ইতিহাস ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে দূরে রেখে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও কুসংস্কার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রচার করে । কিন্তু অপরদিকে অপেশাদারি ইতিহাসে ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় ।

৫. ধারাবাহিকতার পার্থক্য :- পেশাদারি ইতিহাসে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যে কোন ঘটনার সূচনা পর্ব গতি প্রকৃতি ও ঘটনার পরিণতিকে ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হয় । কিন্তু অন্যদিকেঅপেশাদার ইতিহাসে ধারাবাহিক ভাবে ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করা হয় না ।

৬. পদ্ধতিগত পার্থক্য :- পেশাদারী ইতিহাসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক থেকে যে কোন প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়  । কিন্তু অন্যদিকেঅপেশাদারী ইতিহাসের ক্ষেত্রে কোন ক্ষেত্রেই কোন পদ্ধতির অনুসরণ করা হয় না ।

 পেশাদারী শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব – পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব সভ্যতার উদয় ও অগ্রগতি প্রকৃতির ধারণা দেয় ইতিহাস । এদের সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় যেমন যেমন পুরানতত্ত্ব,ভূগোল, বিজ্ঞান প্রভৃতির সার্থক থাকায় ইতিহাস হয়ে উঠেছে এক বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার । ইতিহাসের অতীত ও বর্তমানের মধ্যে দেওয়া-নেওয়া চলতে থাকে । অতীতের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে বর্তমান এই বর্তমান কে জানা ও বোঝার জন্য অতীত ইতিহাস অনেকভাবে সাহায্য করে ।

উপসংহার :- পরিশেষে বলা যায় যে পেশাদারী ইতিহাস চর্চা অপেশাদার ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে তুলনায় অনেক বেশি ব্যস্ত ব্যাপক ফলে স্বাভাবিকভাবে পেশাদারী ইতিহাস চর্চা অনেক বেশি উপযোগী ও আধুনিক।



Leave a Comment