আবর্তন কাকে বলে।। আবর্তনের নিয়ম গুলি লেখ।। (A) বচনের সরল আবর্তন হয় না কেন ।। উচ্চমাধ্যমিক দর্শন বড় প্রশ্ন অমাধ্যম অনুমান

 আবর্তন:- যে অমাধ্যম অনুমানে যুক্তি বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় ন্যায় সংঙ্গত ভাবে স্থান পরিবর্তন করা হয় এবং যুক্তিবাক্যের গুন অপরিবর্তিত রেখে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত করা হয়। সেই অনুমানকে আবর্তন বলে।

         যে বচন টিকে আবর্তন করা হচ্ছে অর্থাৎ যুক্তি বাক্যটিকে বলে আবর্তনীয় এবং আবর্তন করে যে বচনটি পাওয়া গেল অর্থাৎ সিদ্ধান্তকে বলে আবর্তিত।

উদাহরণ:-
আবর্তনীয়:-(E) কোনো মানুষ নয় অমর।
আবর্তিত:-(E) কোনো অমর জীব নয় মানুষ।

আবর্তনের নিয়ম:-
(১) আবর্তনের যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্যটি সিদ্ধান্তের বিধেয় স্থানে বসবে।
(২)  আবর্তনের যুক্তিবাক্যের বিধেয়টি সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য স্থানে বসবে।
(৩)  যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে ‘গুন’ এর কোনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ যুক্তিবাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্ত সদর্থক হবে। আবার যুক্তি বাক্য নঞর্থক হলে সিদ্ধান্ত নঞর্থক হবে।
(৪) যে পদ যুক্তিবাক্যে ব্যাপ্য নয় সেই পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না।

✡️ সাধারণ ক্ষেত্রে (A) বচনের সরল আবর্তন সম্ভব নয়। (A) বচনের সরল আবর্তন করার চেষ্টা করলে  সিদ্ধান্ত কি হয় দেখা যাক-

এই আবর্তনের উদাহরণটি অবৈধ। কারণ এটি আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। আবর্তনের নিয়ম থেকে জানি যে পদ যুক্তিবাক্যে ব্যাপ্য নয় সেই পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না।
             কিন্তু এখানে যুক্তিবাক্যে ‘মরণশীল’ পদটি (A) বচনে বিধেয় পদ হিসেবে ব‍্যাপ‍্য হয়নি। কারণ আমরা জানি (A) বচনের শুধুমাত্র উদ্দেশ্য পদ ব‍্যাপ‍্য। অথচ ‘মরণশীল’ পদটি সিদ্ধান্তে (A) বচনে উদ্দেশ‍্য পদ হিসাবে ব‍্যাপ‍্য হয়েছে।
       এই কারণে উপরিক্ত যুক্তিটি অবৈধ এবং সাধারণ ক্ষেত্রে (A) বচনের সরল আবর্তন সম্ভব নয়।

3 thoughts on “আবর্তন কাকে বলে।। আবর্তনের নিয়ম গুলি লেখ।। (A) বচনের সরল আবর্তন হয় না কেন ।। উচ্চমাধ্যমিক দর্শন বড় প্রশ্ন অমাধ্যম অনুমান”

Leave a Comment