[2021] উদারনীতি বাদের মূলনীতি গুলি ব্যাখ্যা কর।। অথবা উদারনীতি বাদের শর্ত গুলি কি কি তা লেখ ।। উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন:-
উদারনীতিবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা করো।
অথবা,
উদারনীতিবাদের মূলসূত্রগুলি ব্যাখ্যা করো।
অথবা,
উদারনীতিবাদ বলতে কী বোঝো? এর মূলনীতিগুলি কী?

ভূমিকা→ এককথায় উদারনীতি বাদের সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন। অনেকের মতে উদারনৈতিক মতবাদটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হবহাউসের মতে,

 “উদারনীতিবাদ হলো এমন একটি মতবাদ যেখানে একটি মানুষের স্বাধীন জীবনের কণ্ঠস্বর, তাদের চিন্তা, বিশ্বাস বিকশিত হয়।”

 মাস্কবাদীদের মতে উদারনীতিবাদ হল পুঁজিবাদের আরেক রূপ। তাই তারা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

বৈশিষ্ট‍্য‍

উদারনীতিবাদ প্রাচীন উদারনীতিবাদ এবং আধুনিক উদারনীতিবাদ এই দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত। উদারনীতিবাদের আর এক নাম হিতবাদ, বেনথাম এর রূপকার। হিতবাদীরা মনে করেন ‘সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ সর্বাধিক উদারনীতিবাদের মূল লক্ষ।’ এর বৈশিষ্ট্য গুলি হলো-

শাম্য প্রতিষ্ঠা→ সর্বস্তরের সাম্যের উপর উদারনীতিবাদ গুরুত্ব আরোপ করে।

জনমত→ আধুনিক উদারনীতিবাদ সুষ্ঠু ও সরল জনমত গঠনের সহায়ক। আর যদি সুষ্ঠু না হয় তাহলে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটে।

বহুদল ব্যবস্থা→ আধুনিক উদারনীতিবাদ একাধিক রাজনৈতিক দলে বিশ্বাসী, কারণ বহু রাজনৈতিক দল থাকলে সমালোচনা ও প্রতিসমালোচনার মাধ্যমে সমাজের সমস্যা গুলোকে সহজেই তুলে ধরা যায়। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সাফল্য মন্ডিত হয়।

সরকার পরিবর্তন→ উদারনীতিবাদের অন্যতম নিতে হলো শান্তিপূর্ণ ও সংবিধান উপায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করা। উদারনীতিবাদ বৈপল্বিক উপায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে বিরোধী।

সর্বাধিক ভোটাধিকার→উদারনীতিবাদ সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারকে শিকার করে এইভাবে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের ভোটাধিকার পায়।

নিরপেক্ষ আন্দোলন→আধুনিক উদারনীতিবাদ আইনের অনুশাসনের উপর প্রতিষ্ঠা। এই মতবাদ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি নিরপেক্ষ আদালতের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষবাদী।

মূল্যায়ন

 শুধু মার্কসবাদীরা নয় অন্যান্য অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও উদারনীতিবাদের সমালোচনা করেছে তাদের মতে–

অর্থনৈতিক সাম্য উপেক্ষিত→ উদারনীতিবাদে অর্থনৈতিক সাম্য উপেক্ষিত হয়েছে। অধ্যাপক লাস্কি বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য না থাকলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য অর্থহীন হয়ে পড়ে।’

জনমত অবহেলিত→ উদারনীতিবাদেও জনমত সঠিক ভাবে প্রকাশিত হতে পারেনা। অধ্যাপক লাস্কির ভাষায় ‘যে সমাজে অর্থনৈতিক অসাম্য থাকে সেই সমাজের সুষ্ঠু জনমত তৈরী হতে পারে না।

মাস্কবাদী সমালোচনা→ মাস্ক বাদীদের মতে, উদারনীতিবাদের গণভোট, গনউদ্দোগ প্রভৃতির কোন ব্যবস্থা নেই। সুতরাং প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থার কোন মূল্য থাকে না। লেনিন মন্তব করেছেন ‘সমগ্র জাতির ইচ্ছা কে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এবং ভেড়া দের সঙ্গে নেকড়ে রা যাতে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে, শোষিত দের সঙ্গে শোষকরা পাশাপাশি বসবাস করতে পারে সে জন্য এই ব্যাবস্থা অস্বীকার হয়েছে।’

উপসংহার→ উল্লেখিত সমালোচনা সত্ত্বেও এর একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। উদারনীতিবাদিই প্রথম মানবতাবাদ দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দিয়েছে। সাম‍্য, মৈত্রীও ভালোবাসার বাণী প্রচার করেছে। এটি একটি প্রগতিশীল জীবনাদর্শ এই মতবাদ অন্ধ বিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অঙ্গনে দাড় করেছেন। এই মতবাদ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থার ভিত্তি রচনা হয়েছে।

Leave a Comment