ভারতের লোকআদালতের গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আলোচনা কর।।উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বড় প্রশ্ন।।ভারতের বিচার বিভাগ

ভূমিকা→ বিচারের কাজ বিলম্বে সম্পাদিত হলে তা বিচার না পাওয়ার  নামান্তর বিলম্বে বিচার পেলে তা কোন বিচার নয়। বিচারপ্রার্থী অনেক সময় সুবিচার পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় বিচারের রায় বেরোতে ১০-১৫ বছর কেটে গেছে। তাই দ্রুতবিচার লাভের উদ্দেশ্যে লোক আদালতের ভাবনা এই রূপ আদালত গঠনের উদ্দেশ্য হলো সহজ উপায়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। লোক আদালতের বিচার সময় সাপেক্ষ নয়। খুব কম খরচে সাধারণ দরিদ্র ব্যক্তিরা এই আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার পেতে পারে। লোক আদালতের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রসার ঘটলে অন্যান্য আদালতে কার্যভার লাভব হবে।

কার্যাবলী→  লোক আদালত জনস্বার্থে বহুবিধেয় কাজ সম্পাদন করেন। যেমন – দুর্ঘটনাজনিত বিরোধ, দাম্পত্য  জীবনের বিরোধ,সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা ইত্যাদি। দ্রুত গরিব মানুষদের সুবিচার দেওয়া লোক আদালতের প্রধান কাজ ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সেখানে লোক আদালতের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতে বহু গরীব লোককে বিনা পয়সায় আইনি সাহায্য দরকার প্রতিষ্ঠানিক আদালতে মামলা করা টাকা এই গরীব লোক গুলো কোথা থেকে পাবে।

গঠন→   লোক আদালত কার্যরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় ব্যক্তি ও অন্য কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত হবে তবে অন্য কয়েকজন ব্যক্তির সংখ্যা কত হবে, তা লোক আদালত গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষ স্থির করে দেয়। প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার পি.এন.ভগবতী কে লোক আদালতের জনক বলা হয়।

লোক আদালতের কার্যপদ্ধতি

 (ক) বিবাদমান পক্ষ দুটির মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষ সংশ্লিষ্ট বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য লিখিতভাবে লোক আদালতে আবেদন জানালে এবং সেই আবেদন পত্র পরীক্ষার পর গ্রহণযোগ্য বলে মনে করলে লোক আদালতের সংশ্লিষ্ট বিরোধটির নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেই। 

(খ) যে কোনো বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে এই আদালত ন্যায়বিচারে আদর্শ,সততা ও নিরপেক্ষতার নীতি ন্যায় ব্যবহার ও আইনি আদর্শের নীতি অনুসরণ করতে থাকে। 

(গ) মনে রাখা দরকার যে বিবাদে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি সম্মতিসহ কেবলমাত্র আপস বা মীমাংসার ভিত্তিতে লোক আদালতের বিবাদ নিষ্পত্তির রায় দিতে পারে। 

(ঘ) লোক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। 

(ঙ) এই আদালত যেসব বিবাদ নিস্পতির রায় দেয় সেগুলিকে আদালতের রায়ে হিসেবে গণ্য করা হয়।

উপসংহার→  ব্যয় সাপেক্ষ নয় বলে এবং আপস-মীমাংসার সরল অনুসরণ করে তাড়াতাড়ি বিবাদের  নিষ্পত্তি করা যায় বলে লোক আদালত বর্তমানে যথেষ্ট জনপ্রিয়। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে লোক আদালত সরলাপন‍্য হওয়া বর্তমান বাড়ছে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ,গুজরাট,মহারাষ্ট্র,উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের লোক আদালত তার ভূমিকার মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

1 thought on “ভারতের লোকআদালতের গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আলোচনা কর।।উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বড় প্রশ্ন।।ভারতের বিচার বিভাগ”

Leave a Comment