দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে এবং বিপক্ষে যুক্তি দাও।। উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান 2021 বড় প্রশ্ন।।

 বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা উপস্থিত দেখা যায়। এক কক্ষ না দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে যে সকল বিজ্ঞানী বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে হলেন- জন স্টুয়ার্ট মিল, লর্ড ব্রাইস, হেনরি মেহন প্রমুখ গণ। বিপক্ষে যারা বলেছেন তাঁরা হলো অধ্যাপক ল‍্যাস্কি, বেনথাম, ক্সাঙ্ক লিন

বিপক্ষের পক্ষে যুক্তি


1. উন্নত আইন প্রনয়ন এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় দ্রুত আইন তৈরি হয় এবং আইনগুলি ত্রুটিযুক্ত হয়। অন্যদিকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা দুটি কক্ষে আলোচনা হওয়ার ফলে এখানে আবেগ বা প্রঙ্গার কোন স্থান না থাকায় আইনগুলি অনেক উন্নত এবং ত্রুটি মুক্ত হয়।

2 রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি- দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা একটি পক্ষ অন্যায় ভাবে আইন রচনা করলে, ওপর পক্ষতি তার বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওই আইন সংশোধনের প্রিয়জনিতা তুলে ধরে যা থেকে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক সচেতনতা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

শ্বৈরাচার রোধ- আইনসভার দ্বিতীয় কক্ষ থাকলে প্রথম কক্ষের অনৈতিক এবং ক্ষমতার জোরে জনগণ বিরোধী আইন তৈরি করতে পারে না। কারণ দ্বিতীয় কক্ষের কাজই হলো প্রথম কক্ষের কাজকর্মের বিচার-বিশ্লেষণ করা।

নৈতিক প্রভাব- আইনসভার দুটি কক্ষ থাকলে প্রথম কক্ষের সদস্যগণ নির্বাচিত হন। ফলে এখানে অল্প বয়স্ক সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। অন্যদিকে দ্বিতীয় কক্ষ থাকলে সেখানের সদস্যে গণ বয়স্ক রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন গুণের অধিকারী হন। ফলে দ্বিতীয় কক্ষের সদস্য গণ প্রভাব বিস্তার করে প্রথম কক্ষের উপর।

শিক্ষা বিস্তারের সহায়তা- দ্বিতীয় পক্ষের সদস্যগণ বিভিন্ন গুণের অধিকারী হন। তারা একাকজন একাক বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং পারদর্শী হন। যেটা আইনসভার উপর প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রভাব জনগণের উপর গিয়ে পড়ে এবং জনগণ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করতে পারে।


বিপক্ষের যুক্তি

অগণতান্ত্রিক- আইন সভার প্রথম কক্ষের সদস্যগণ জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় কক্ষের সদস্যগণ কোন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননা মনোনীত হন। ফলে জনগণের ইচ্ছা বা আশা-আকাঙ্ক্ষা সহায়ক হয়না।

সময়ের অপচয়- এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় আইন তৈরি খুব দ্রুততার সঙ্গে হয়। ফলে যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও আইন তৈরি করতে কোন সময় লাগে না। দ্বিতীয় কক্ষ থাকলে আলোচনা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং যে কোন আইন তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

অযথা অর্থ অপচয়- দুটি কক্ষ থাকা মানেই সদস্য সংখ্যা ও এক কক্ষের চেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। ফলে প্রত্যেক সদস্যের মাথাপিছু খরচ বাড়তে থাকায় মোটের উপরেও খরচের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত অপচয় জনগনের কল্যাণ অপেক্ষা অকল‍্যান হয়।

জনস্বার্থ বিরোধ- প্রথম কক্ষ সর্বদা জনগণের চাহিদা বা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থাৎ জনগণের স্বার্থ চিন্তা করে আইন প্রণয়ন করে। অন্যদিকে দ্বিতীয় কক্ষ কিছু মুষ্টিমেয় জনগোষ্ঠীর হয়ে কাজ করার চেষ্টা করে। এবং সাধারন জনগনের বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা করে।

অনাবশ্যক- দ্বিতীয় পক্ষ যদি প্রথম পক্ষের সঙ্গে একমত হয় তবে তা অনাবশ্যক। আর যদি একমত না হয় তবে তা অনিষ্টকর। উচ্চকক্ষ যদি নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেয় তাহলে উচ্চকক্ষের অস্তিত্বের কোন সার্থকতা থাকেনা।

উপসংহার- দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দেখানো হোক না কেন, জনগণের সদস্য নির্বাচন ও আইনসভার উভয় পক্ষের সদস্যগণের বিচক্ষণতা এবং জনগণের শুভাকাঙ্ক্ষী যদি হয় তাহলে এক কক্ষ এবং দ্বিকক্ষ  উভয় ভালো আর যদি  জনগণের আবশ্যিক এবং আইনসভার সদস্য কোন দুর্নীতি পরায়ন এবং আত্মকেন্দ্রিক জনবিরোধী এবং ক্ষমতা লোভি হয় তাহলে এক পক্ষ দ্বিপক্ষ কোনটাই ভালো হবে না।

Leave a Comment