ভারতের অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যবলি আলোচনা কর

ভূমিকা  -> রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের শাসন বিভাগের প্রধান । সংবিধানের 155 নং ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাজ্যপাল কে নিয়োগ করেন । সাধারণত প্রতিটি রাজ্যের জন্য অথবা একাধিক রাজ্যের জন্য একজন রাজ্যপাল থাকতে পারেন এবং তার নাম এ রাজ্যের শাসন কার্য পরিচালিত হয়।

ক্ষমতা
রাজ্যপাল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তার ক্ষমতা বিভিন্ন ধরনের যেমন – ১> আইনি ক্ষমতা ২> শাসন ক্ষমতা ৩>আর্থিক ক্ষমতা ৪ >বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা ৫> স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা।
1.আইনি ক্ষমতা -> রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের আইনসভার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি রাজ্যে আইন সভার অধিবেশন আহ্বান করেন ও স্থগতি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি বিধানসভা ভেঙে দেন। কোন বিল পাসের পর তার কাছে এলে তিনি বিলের সম্মতি দিতে পারেন, আবার সম্মতি না দিয়ে পুনর র্বিবেচনার জন্য বিলটিকে ফেরত পাঠাতে পারেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ক্ষমতাটি হলো বিধানসভা বন্ধ থাকাকালীন ‘জরুরী আইন জারি করতে পারেন ।
2.শাসন ক্ষমতা -> রাজ্যপাল রাজ্যের শাসন বিভাগীয় প্রধান (154 নং ধারা )। মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শে তিনি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল, C.S.P এর সদস্যদের তিনি নিয়োগ করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ‘রাজ্যের শাসনভার সংবিধানের উপায় চলছে না’,-এই রকম মনে হলে 356 নং ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন।
3.আর্থিক ক্ষমতা ->রাজ্যপালের সুপারিশ ছাড়া কোন ব্যয় বরাদ্দের দাবি উত্থাপন করা যায় না। তার অনুমতি নিয়ে অর্থবিল বিধানসভায় পেশ করা হয়। রাজ্যের জরুরি তহবিল রাজ্যপালের তত্ত্বাবোধনে থাকে।
4.বিচার ক্ষমতা->রাজ্য সরকারের এখতিয়া ভুক্তি বিষয়ে আইন অমান্য জনিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তি কে রাজ্যপাল ক্ষমা করতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপতির মতো তিনি কোন মৃত্যুদণ্ড কে রধ করতে পারে না।
 
5.স্বেচ্ছাধিন ক্ষমতা->রাজ্যপালের বিশেষ ক্ষমতা কে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। যদিও সংবিধানের বিশেষজ্ঞদের মতে রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন ও রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
-পদমর্যাদা-
->সংসদীয় গণতন্ত্রে রীতি অনুসারে রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় প্রাকৃত শাসক। তিনি শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। এই সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। তবু তার পদমর্যাদা কে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অঙ্গনে দুটি পরস্পর বিরোধি মত রয়েছে। যারা রাজ্যপালকে প্রাকৃতিক প্রশাসক বলেন তাদের মতে।
1>রাজ্যপাল রাজ্যের প্রকৃত শাসক। তিনি নিজে এবং তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সংবিধান সম্মতভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
2>স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সঙ্গে পরামর্শ করতে তিনি বাধ্য নন। যেমন- মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ, অপসারণ, রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য বীম সংরক্ষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা অপরিসীম।
উপসংহার-> দু-একটি ক্ষেত্র বাদ দিলে ভারতীয় সংবিধানের ইতিহাসে রাজ্যপাল গণ মোটামুটি ভাবে নিয়ম তান্ত্রিক শাসকের ভূমিকা পালন করেছেন। আজও রাজ্যপালের প্রাকৃতিক ক্ষমতা ও পদমর্যাদা সম্পর্কে বিতর্ক শেষ হয়নি। এর অবসন হওয়া দরকার এবং এটি হবে সংবিধানের বিধান গুলি স্পষ্ট হলে।

Leave a Comment