খসড়া রচনা

 খসড়া রচনা

১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট পরিষদের অধিবেশনে একাধিক কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই কমিটিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মৌলিক অধিকার কমিটি, কেন্দ্রীয় ক্ষমতা কমিটি ও কেন্দ্রীয় সংবিধান কমিটি। ১৯৪৭ সালের ২৯ অগস্ট ড. বি. আর. আম্বেডকরের নেতৃত্বে খসড়া কমিটি গঠিত হয়। ড. আম্বেডকর ছাড়াও এই কমিটিতে আরও ছয় জন সদস্য ছিলেন। কমিটি একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করে সেটি ১৯৪৭ সালের ৪ নভেম্বরের মধ্যে গণপরিষদে পেশ করেন।

গণপরিষদ সংবিধান রচনা করতে ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন সময় নিয়েছিল। এই সময়কালের মধ্যে ১৬৬ দিন গণপরিষদের অধিবেশন বসে।একাধিকবার পর্যালোচনা ও সংশোধন করার পর ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের মোট ৩০৮ জন সদস্য সংবিধান নথির দুটি হস্তলিখিত কপিতে (একটি ইংরেজি ও একটি হিন্দি) সই করেন। দুই দিন বাদে এই নথিটি ভারতের সর্বোচ্চ আইন ঘোষিত হয়।

পরবর্তী ৬০ বছরে ভারতের সংবিধানে মোট ১১৩টি সংশোধনী আনা হয়েছিল।

গঠন

বর্তমানে ভারতের সংবিধান একটি প্রস্তাবনা, ২৪টি অংশে বিভক্ত ৪৪৮টি ধারা, ১২টি তফসিল, ৫টি পরিশিষ্ট ও মোট ১১৩টি সংশোধনী নিয়ে লিখিত। 

অংশ

সংবিধানের পৃথক পৃথক অধ্যায়গুলি অংশ নামে পরিচিত। প্রত্যেকটি অংশে আইনের এক একটি ক্ষেত্রে আলোচিত হয়। অংশের ধারাগুলির উপজীব্য হল নির্দিষ্ট বিষয়গুলি।

প্রস্তাবনা

প্রথম অংশ – ইউনিয়ন ও তার এলাকাসমূহ।

দ্বিতীয় অংশ – নাগরিকতা.

তৃতীয় অংশ – মৌলিক অধিকার।

চতুর্থ অংশ- নির্দেশমূলক নীতি ও মৌলিক কর্তব্য।

পঞ্চম অংশ – কেন্দ্র।

ষষ্ঠ অংশ – রাজ্য।

সপ্তম অংশ- প্রথম তফসিলের খ শ্রেণীর রাজ্য (প্রত্যাহৃত)।

অষ্টম অংশ – কেন্দ্রশাসিত রাজ্য।

নবম অংশ – পঞ্চায়েত ও পৌরশাসন ব্যবস্থা।

দশম অংশ – তফসিলি ও আদিবাসী এলাকা।

একাদশ অংশ – কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক।

দ্বাদশ অংশ – অর্থ, সম্পত্তি, চুক্তি ও মামলা।

ত্রয়োদশ অংশ – অভ্যন্তরীণ ব্যবসা ও বাণিজ্য।

চতুর্দশ অংশ – কেন্দ্র, রাজ্য ও ট্রাইব্যুনালের অধীনস্থ কৃত্যক।

পঞ্চদশ অংশ – নির্বাচন।

ষোড়শ অংশ – কিছু সামাজিক শ্রেণীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা।

সপ্তদশ অংশ – ভাষা।

অষ্টাদশ অংশ – জরুরি অবস্থা।

ঊনবিংশ অংশ – বিবিধ।

বিংশ অংশ – সংবিধান সংশোধন।

একবিংশ অংশ – সাময়িক, পরিবর্তনশীল ও বিশেষ ব্যবস্থা

দ্বাবিংশ অংশ – ক্ষুদ্র শিরোনাম, শুরুর তারিখ, প্রামাণ্য হিন্দি সংস্করণ ও প্রত্যাহারসমূহত্রয়োবিংশ অংশ – সাময়িক, পরিবর্তনশীল ও বিশেষ ব্যবস্থাচতুর্বিংশ – সাময়িক, পরিবর্তনশীল ও বিশেষ ব্যবস্থা।

তফসিল

সরকারের আমলাতান্ত্রিক কাজকর্ম ও নীতিগুলির বর্গবিভাজন ও সারণিকরণ করা হয়েছে তফসিলগুলিতে।

👉প্রথম তফসিল (ধারা ১ – ৪) — রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – এখানে ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির তালিকা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কোনো পরিবর্তন বা যে আইনের দ্বারা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তারও তালিকা এখানে রয়েছে।

👉দ্বিতীয় তফসিল (ধারা ৫৯, ৬৫, ৭৫, ৯৭, ১২৫, ১৪৮, ১৫৮, ১৬৪, ১৮৬ ও ২২১) — উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বেতন – সরকারি কার্যালয়ের আধিকারিক, বিচারপতি ও ভারতের কন্ট্রোলার ও অডিটর-জেনারেলের বেতনের তালিকা এখানে রয়েছে।

👉তৃতীয় তফসিল (ধারা ৭৫, ৯৯, ১২৪, ১৪৮, ১৬৪, ১৮৮ ও ২১৯) — শপথ – নির্বাচিত আধিকারিক ও বিচারপতিদের শপথ।

👉চতুর্থ তফসিল (ধারা ৪ ও ৮০) — রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অনুসারে রাজ্যসভার আসন সংখ্যা।

👉পঞ্চম তফসিল (ধারা ২৪৪) — তফসিলি এলাকা[Note ১] ও তফসিলি উপজাতি [Note ২] প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য যেসকল এলাকা ও উপজাতির বিশেষ সুরক্ষা প্রয়োজন, সেই সব ক্ষেত্রে)।

👉ষষ্ঠ তফসিল (ধারা ২৪৪ ও ২৭৫) —অসম, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের উপজাতি-অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রশাসন।

👉সপ্তম তফসিল (ধারা ২৪৬) — কেন্দ্রীয়, রাজ্য ও যুগ্ম দায়িত্ব তালিকা।

👉অষ্টম তফসিল (ধারা ৩৪৪ ও ৩৫১) — সরকারি ভাষাসমূহ।

👉নবম তফসিল (ধারা ৩১-খ) — ভূমি ও ভূম্যধিকারী সংস্কার; সিক্কিমের ভারতভূক্তি। এটি আদালত কর্তৃক পর্যালোচিত হতে পারে।

👉দশম তফসিল (ধারা ১০২ ও ১৯১) — সাংসদ ও বিধায়কদের “দলত্যাগ-রোধ” সংক্রান্ত বিধি।

👉একাদশ তফসিল (ধারা ২৪৩-ছ) — পঞ্চায়েত বা গ্রামীণ স্বায়ত্বশাসন।

👉দ্বাদশ তফসিল (ধারা ২৪৩-প) — পৌরসভা।

Leave a Comment