ভারতের নির্বাচন ব্যাবস্থা

ভারতের নির্বাচন ব্যাবস্থা

ভারতের শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়। কেন্দ্রে এবং রাজ্যগুলিতে আলাদা আলাদা আইনসভা রয়েছে। কেন্দ্রের আইনসভার নাম সংসদ। ভারতীয় সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট —- লোকসভা ও রাজ্যসভা। লোকসভায় রয়েছে ৫৪৩টি আসন। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে দেশের জনগণ এই ৫৪৩টি আসনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন হয়। রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা ২৪৫। এঁদের মধ্যে ২৩৩ জনকে নির্বাচিত করেন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইনসভার সদস্যরা। রাজ্যসভার সদস্যদের মেয়াদ ছ’ বছর। প্রতি দু’ বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন। রাজ্যসভার বাকি ১২ জন সদস্যকে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মনোনয়ন করা হয়।
কোনও কোনও রাজ্যের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট, নাম বিধানসভা। কোনও কোনও রাজ্যের আইনসভায় দু’টি কক্ষ রয়েছে —- বিধানসভা ও বিধান পরিষদ। রাজধানী দিল্লিতে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা রয়েছে। বিধানসভার সদস্যরা সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। এবং বিধান পরিষদের সদস্যরা রাজ্যসভার সদস্যদের মতো পরোক্ষ ভাবে নির্বাচিত হন।
এ ছাড়াও রাজ্যগুলিতে স্থানীয় প্রশাসন তথা পুরসভা ও পঞ্চায়তের প্রতিনিধিরাও জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হন।
ভারতে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এই কমিশন গঠিত হয়েছে ভারতীয় সংবিধান বলে। এটি স্বশাসিত সংস্থা। এরা দেশের রাষ্ট্রপতি এবং উপ-রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে। নির্বাচন কমিশনের মাথায় রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁর সহযোগী দু’ জন অতিরিক্ত নির্বাচন কমিশনার। ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে ভারতে নির্বাচন পরিচালিত হয়। রাজ্যগুলির পুরসভা ও পঞ্চায়েতের ভোট পরিচালনা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যাঁর বয়স অন্তত ১৮ বছর, ভোটদানের অধিকারী। নির্বাচন কমিশন ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আর সে দিন থেকে চালু হয়ে যায় নির্বাচনী আচরণবিধি। লোকসভা ও বিধানসভার ক্ষেত্রে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যাঁর বয়স অন্তত ২৫ বছর, নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। রাজ্যসভার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩০ বছর। ভারতে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু। নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত যে কোনও রাজনৈতিক দল দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
আগে ভারতে ব্যালটে ছাপ দিয়ে ভোট দিতে হত। ১৯৯৯ সাল থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার আংশিক ভাবে চালু করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে সারা দেশে এই পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। এখন ভোটদাতারা ইভিএম যন্ত্রে বোতাম টিপে ভোট দেন।
২০১৩-এর ২৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট যে রুলিং দেন, তার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ইভিএম যন্ত্রে প্রার্থীদের নামের সঙ্গে সঙ্গে আর একটি বোতাম রাখছে —- নোটা (নান অফ দ্য অ্যাবভ)। কোনও প্রার্থীকেই পছন্দ না হলে ভোটদাতারা ‘নোটা’ বোতাম টিপে তাঁদের অপছন্দের কথা জানাতে পারেন। তার মানে অবশ্য এই নয় যে, কোনও কেন্দ্রে ‘নোটা’ যদি সব চেয়ে বেশি ভোট পায়, তা হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল হবে।

Leave a Comment